- প্রথম পাতা
- বার্তা
- 9 জুলাই 2026
ইরানের শহীদ নেতার জানাজা ও দাফন উপলক্ষে বাণী
এটি মূল ফারসি পাঠের অনুবাদ। মূল ফারসি পাঠ
بسم الله الرّحمن الرّحیم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
السَّلامُ علیکَ یا ثاراللهِ وَ ابنَ ثاره وَ الوِترَ المَوتور. السَّلامُ علیکَ وَ علی جَدِّکَ وَ اَبیکَ وَ اُمِّکَ وَ اَخیکَ وَ المَعصومینَ مِن وُلدِک.
আপনার ওপর সালাম, হে আল্লাহর রক্ত (যাঁর রক্তের প্রতিশোধ আল্লাহ স্বয়ং গ্রহণ করবেন) এবং আল্লাহর রক্তের সন্তান, হে নিঃসঙ্গ, যাঁর রক্তের প্রতিশোধ এখনও গৃহীত হয়নি। আপনার ওপর সালাম এবং আপনার নানা, আপনার পিতা, আপনার মাতা, আপনার ভাই এবং আপনার বংশধরদের মধ্যকার নিষ্পাপ ইমামগণের ওপর সালাম।
সালাম সেই ইমামের প্রতি, যাঁর জাগরণের জীবনদায়ী আহ্বান নবুওয়াতের মিশনের এক বিশাল ও অনুরণিত প্রতিধ্বনিকে ইতিহাসের সুদূর গভীরতা পর্যন্ত প্রসারিত করেছে এবং যার প্রভাবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের জন্ম হয়েছে। এমন এক বিপ্লব, যা মূলগতভাবেই হুসাইনি এবং হুসাইনের স্লোগান ও আদর্শে নির্মিত ও বিকশিত হয়েছে। ইরানের শহীদ নেতাও এই আদর্শেই বেড়ে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন হুসাইনি; হুসাইনি চিন্তা করেছেন, হুসাইনি পথে চলেছেন, হুসাইনি জিহাদ ও প্রতিরোধ করেছেন, হুসাইনি জীবনযাপন করেছেন, এবং হুসাইনি পদ্ধতিতে হুসাইনের মতাদর্শের পথে নিজের রক্ত উৎসর্গ করে শাহাদাতবরণ করেছেন। হুসাইনিদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, যখন হুসাইনের পথে এবং হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর মতাদর্শ ও আদর্শের জন্য তাঁদের রক্ত মজলুম অবস্থায় মাটিতে ঝরে, তখন ইসলামী উম্মাহ আন্দোলিত হয় এবং সেই সময় আশুরার সঙ্গে আর সেই স্থান কারবালার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এখনও সেই হুসাইনি উদ্দীপনা আমাদের জাতিকে জাগরণ দান করেছে এবং মহান খোমেনী ও শহীদ খামেনেয়ীর মতাদর্শকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। এটাই সেই জীবনদায়ী আলোড়ন, যা হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর মজলুমিয়্যাতের আহ্বান এবং তাঁর هَل مِن ناصرٍ یَنصُرُنیِ (আছে কি কোনো সাহায্যকারী, যে আমাকে সাহায্য করবে?) আহ্বানের প্রতিধ্বনি হিসেবে ইরানে এবং তারপর ইরাক ও অন্যান্য দেশে সৃষ্টি হয় এবং বাতিলের মধ্যে ভূকম্পন সৃষ্টি করে। এই উপলক্ষে ইরান ও ইরাকের শহর ও গ্রামগুলোতে, বিশেষত তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদে জনগণের কয়েক কোটি সংখ্যক, বিস্ময়কর, শত্রু-বিধ্বংসী ও ঐতিহাসিক উপস্থিতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো সমীচীন।
আমাদের জাতি হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধপ্রার্থী। এই মহান জাতি বহু বছর ধরে হুসাইনের পথে এবং হুসাইন ও হুসাইনি আদর্শের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজের সন্তানদের উৎসর্গ করেছে। এবং এখনও সে তাঁর এবং যুগের হুসাইনিদের রক্তের প্রতিশোধপ্রার্থী।
এখন আমাদের শহীদ নেতার উদ্দেশে নিবেদন করছি: হে মজলুম নিহত! হে সমুন্নত মজলুম! হে আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দা! এখন যখন অশ্রুসিক্ত চোখ ও ভগ্ন হৃদয়ে আমরা আপনার দেহকে বিদায় জানাচ্ছি, আপনার সঙ্গে অঙ্গীকার করছি যে, আমরা আপনার মতাদর্শকে রক্ষা করব, আপনি যে সরল পথ অঙ্কন করেছেন তা দৃঢ়তার সঙ্গে অতিক্রম করব, এই পথে কষ্টকে ভয় করব না, এবং আপনার মতোই আল্লাহর সুসংবাদ ও প্রতিশ্রুতির প্রতি হৃদয়কে নিবদ্ধ রাখব। অঙ্গীকার করছি যে, আপনার এবং এই দুই যুদ্ধের সকল শহীদের পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ অপরাধী ও লজ্জাহীন হত্যাকারীদের কাছ থেকে গ্রহণ করব। এই প্রতিশোধ আমাদের জাতির দাবি এবং তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হতে হবে। এই অপরাধীরা, যাদের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত একটি তালিকা বিদ্যমান, শান্তিপূর্ণভাবে বিছানায় মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা সঙ্গে নিয়েই কবরে যাবে। তাদের জানা উচিত যে, এই বিষয়টি আমার বা অন্য কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। আমরা থাকি বা না থাকি, এটি বাস্তবায়িত হবে এবং অচিরেই সমগ্র বিশ্বের স্বাধীনচেতা ব্যক্তিরা প্রত্যেকে এই ঐশী মিশনের একেকটি অংশ সম্পাদন করবেন।
হে উম্মাহর শহীদ পিতা, শাহাদাতের সুধা পান, যার আকাঙ্ক্ষায় আপনি সারাজীবন ছিলেন, আপনার জন্য সুমধুর হোক। এমন এক দেহে শাহাদাতের পোশাক পরিধান, যা আপনার মা পবিত্রতমা যাহরা এবং আপনার পূর্বপুরুষ আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন ও আবাল ফজল আল-আব্বাস (তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম)-এর চিহ্ন বহন করে, আপনার জন্য মোবারক হোক। আর আপনারা, হে তাঁর মজলুম সঙ্গীগণ, যারা আকস্মিকভাবে শত্রুর আক্রমণের শিকার হয়ে শাহাদাতবরণ করেছেন, আপনাদের জন্য সুসংবাদ, কেননা এখন আপনারা সেই মাওলার অতিথি, যাঁর দয়া ও অনুগ্রহ হয়তো আপনারা বহুবার অনুভব করেছিলেন। সেই নেতা, যিনি সকলের জন্য এবং বিশেষত এই ভূখণ্ডের মানুষের জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা, এখন আপনাদের আতিথ্য দিচ্ছেন এবং তাঁর নিরাপদ সান্নিধ্য আপনাদের ঘরে পরিণত হয়েছে।
আর আপনি, হে সুউচ্চ মর্যাদার নেতা! হে মহানুভব! হে দয়াময় ইমাম! ইয়া আবাল হাসান আর-রেজা আল-মুরতাজা, আপনার ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দরুদ বর্ষিত হোক; এখন আপনার এবং পবিত্র আহলে বাইতের সেবকদের মধ্যকার এক সেবকের ছিন্নভিন্ন দেহ বহু বছরের নিরলস প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও সংগ্রামের পর তাঁর পরিবারের শহীদদের দেহের সঙ্গে — যাঁদের প্রত্যেকে কারবালার প্রান্তরের একেকজন শহীদের স্মারক — এই পবিত্র মাটিতে শায়িত হচ্ছে, সেই দিন পর্যন্ত যখন আল্লাহর নির্দেশে বিশ্ব-আলোকিত সূর্য হযরত বাকিয়্যাতুল্লাহ — عجلاللهتعالیفرجهالشّریف (মহান আল্লাহ তাঁর আবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন) — অদৃশ্যতার মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং পৃথিবীর মানুষের ওপর আল্লাহর রহমতের নূর বিকিরণ করবেন। সেই দিন, যা আমরা আশা করি অতি শীঘ্রই আসবে, সিদ্দিকীন, শহীদ ও আউলিয়াদের মধ্য থেকে বহু নক্ষত্র তাঁর সঙ্গী হবেন, এবং আমরা আশা করি আমাদের শহীদ নেতা তাঁদের একজন হবেন এবং আরও একবার সংগ্রাম ও 'আলাস্ত'-এর অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বস্ততার উজ্জ্বল ও অনন্য দৃশ্য উপস্থাপন করবেন, এবং হয়তো এই সঙ্গীরা সেদিনও তাঁর সঙ্গী হবেন।
হে দয়াময় মাওলা! আমাদের নেতা, যিনি তাঁর সবকিছু আপনার পথে ব্যয় করেছেন, এবং তাঁর শহীদ সঙ্গীদের আমরা আপনার এবং আপনার দয়া ও অনুগ্রহের কাছে সোপর্দ করছি, যাতে তাঁরা যেমন তাঁদের পার্থিব জীবনে আপনার অনুগ্রহে ধন্য ছিলেন, এখন থেকেও তেমনি, বরং তার চেয়েও অনেক উচ্চতর ও অধিক মাত্রায় ধন্য হন।
পরিশেষে, আরও একবার আমাদের মাওলা হযরত বাকিয়্যাতুল্লাহ — عجلاللهتعالیفرجهالشریف (মহান আল্লাহ তাঁর আবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন) — এর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং সেই মহানুভব ও দয়ালু ব্যক্তিত্বের কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন তাঁর পবিত্র দোয়াসমূহ ইরানের শহীদ নেতা, তাঁর শহীদ সঙ্গীগণ ও সকল শহীদের দিকে নিবদ্ধ করেন এবং মহান ও সমুন্নত আল্লাহর কাছে সকল শহীদের জন্য মর্যাদার উচ্চতা, তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য ও প্রতিদান এবং মজলুম ইরানি জাতির জন্য নিশ্চিত ও আসন্ন বিজয় ও সাহায্য প্রার্থনা করেন, ইনশাআল্লাহ।
সাইয়্যেদ মোজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ী
১৮ তীর ১৪০৫