1. প্রথম পাতা
  2. বার্তা
  3. 12 মার্চ 2026

ইসলামি বিপ্লবের নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনির প্রথম বার্তা

এটি মূল ফারসি পাঠের অনুবাদ। মূল ফারসি পাঠ

بسم الله الرّحمن الرّحیم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

مَا نَنسَخ مِن آیَةٍ اَو نُنسِها نَأتِ بِخَیرٍ مِنها اَو مِثلِها. (1)
আমি কোনো আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তার চেয়ে উত্তম অথবা তার সমতুল্য কোনো আয়াত আনয়ন করি। (আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারা ২:১০৬)

اَلسَّلامُ‌عَلَیكَ یا داعِیَ اللّهِ وَ رَبّانِیَّ آیاتِهِ اَلسَّلامُ عَلَیكَ یا بابَ اللّهِ وَ دَیّانَ دینِهِ اَلسَّلامُ عَلَیكَ یا خَلیفَةَ اللّهِ و ناصِرَ حَقِّهِ اَلسَّلامُ عَلیكَ یا حُجَّةَ ا‌للّهِ وَ دَلیلَ اِرادَتِه اَلسَّلامُ عَلَیكَ اَیُّهَا المُقَدَّمُ المَأمول اَلسَّلامُ عَلَیكَ بِجَوامِعِ السَّلام. اَلسَّلامُ‌عَلَیكَ یا مَولایَ صاحِبَ الزَّمان.
আপনার প্রতি সালাম, হে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং তাঁর নিদর্শনসমূহের রাব্বানি ধারক; আপনার প্রতি সালাম, হে আল্লাহর দ্বার এবং তাঁর দ্বীনের বিধানদাতা; আপনার প্রতি সালাম, হে আল্লাহর খলিফা এবং তাঁর হকের সাহায্যকারী; আপনার প্রতি সালাম, হে আল্লাহর হুজ্জাত এবং তাঁর ইচ্ছার পথপ্রদর্শক; আপনার প্রতি সালাম, হে অগ্রগণ্য, প্রত্যাশিত জন; আপনার প্রতি পরিপূর্ণ সালাম। আপনার প্রতি সালাম, হে আমার মাওলা, সাহেবুজ্জামান।

বক্তব্যের শুরুতেই আমার মাওলাকে (আল্লাহ তাআলা তাঁর আবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন) বিপ্লবের মহান মর্যাদাসম্পন্ন নেতা, প্রিয় ও প্রজ্ঞাবান খামেনির হৃদয়বিদারক শাহাদাত উপলক্ষে শোক ও সমবেদনা জানাতে চাই, এবং মহান ইরানি জাতির প্রতিটি সদস্য, বরং বিশ্বের সকল মুসলমান, ইসলাম ও বিপ্লবের সকল সেবক, আত্মত্যাগী এবং ইসলামি আন্দোলনের, বিশেষ করে সাম্প্রতিক যুদ্ধের শহীদদের স্বজনদের জন্য এবং এই নগণ্য বান্দার জন্যও তাঁর কাছে কল্যাণের দোয়া প্রার্থনা করছি।

আমার বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশ মহান ইরানি জাতির উদ্দেশে। প্রথমেই সম্মানিত বিশেষজ্ঞ পরিষদের (মজলিসে খোবরেগান) সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমার অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি সংক্ষেপে ব্যক্ত করা প্রয়োজন। আপনাদের এই সেবক সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি আপনাদের সঙ্গে একই সময়ে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্মানিত বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভোটের ফলাফল সম্পর্কে অবগত হয়েছি। যে আসনে দুই মহান মর্যাদাসম্পন্ন নেতা, মহান খোমেনি ও শহীদ খামেনি অধিষ্ঠিত ছিলেন, সেখানে আসন গ্রহণ করা আমার জন্য এক কঠিন কাজ; কেননা এই আসনে এমন একজন অধিষ্ঠিত ছিলেন, যিনি ষাট বছরেরও অধিককাল আল্লাহর পথে সংগ্রাম এবং সব ধরনের ভোগ ও আরাম-আয়েশ ত্যাগ করার পর কেবল বর্তমান যুগেই নয়, বরং এই দেশের শাসকদের সমগ্র ইতিহাসে এক দীপ্তিমান রত্ন ও অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর জীবন ও মৃত্যুর ধরন উভয়ই সত্যের ওপর নির্ভরতা থেকে উৎসারিত মহিমা ও মর্যাদার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত ছিল।

শাহাদাতের পর তাঁর পবিত্র দেহ দর্শনের সৌভাগ্য আমার হয়েছিল; আমি যা দেখেছি তা ছিল দৃঢ়তার এক পাহাড়; এবং শুনেছি যে তাঁর অক্ষত হাতের মুষ্টি দৃঢ়ভাবে বদ্ধ ছিল। তাঁর ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের দীর্ঘকাল ধরে অনেক কিছু বলতে হবে। এই সুযোগে আমি এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকছি এবং বিস্তারিত বিষয়গুলো অন্যান্য উপযুক্ত সময়ের জন্য রেখে দিচ্ছি। এমন একজন ব্যক্তির পর নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হওয়া কঠিন হওয়ার কারণ এটাই। এই ব্যবধান পূরণ করা কেবল আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা এবং আপনাদের, জনগণের, সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব।

এরপর এমন একটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন, যার সঙ্গে আমার মূল বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে; বিষয়টি হলো, শহীদ নেতা ও তাঁর মহান পূর্বসূরির অন্যতম শিল্প ছিল জনগণকে সকল ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করা, তাদের অবিরাম অন্তর্দৃষ্টি ও সচেতনতা দান করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের শক্তির ওপর নির্ভর করা। এভাবে তাঁরা জনগণ ও প্রজাতন্ত্রের প্রকৃত অর্থকে বাস্তব রূপ দিয়েছেন এবং প্রাণের গভীর থেকে তাতে বিশ্বাসও রাখতেন। দেশ যে কয়েক দিন নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছাড়া ছিল, সেই দিনগুলোতে এর সুস্পষ্ট প্রভাব দেখা গেছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় মহান ইরানি জাতির অন্তর্দৃষ্টি ও বিচক্ষণতা এবং তার দৃঢ়তা, সাহসিকতা ও উপস্থিতি বন্ধুকে প্রশংসায় এবং শত্রুকে বিস্ময়ে নিমজ্জিত করেছে। আপনারাই, জনগণ, দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এর শক্তি ও সামর্থ্যের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন।

এই লেখার শুরুতে আমি যে আয়াতটি উল্লেখ করেছি, তার অর্থ হলো, আল্লাহর নিদর্শনসমূহের এমন কোনো নিদর্শন নেই যার মেয়াদ শেষ হয় বা যা বিস্মৃত হয়, অথচ মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর পক্ষ থেকে তার স্থলে তার সমতুল্য বা তার চেয়ে উত্তম কিছু প্রদান করা হয় না। এই মহিমান্বিত আয়াত ব্যবহারের উপলক্ষ এই নয় যে এই বান্দা শহীদ নেতার সমপর্যায়ের, তাঁর চেয়ে উত্তম বলে গণ্য হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না; বরং এই বরকতময় আয়াত উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, প্রিয় জাতি হিসেবে আপনাদের যথাযথ ও উজ্জ্বল ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। সেই মহান নিয়ামত যদি আমাদের কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তার স্থলে আরেকবার ইরানি জাতির আম্মার-সদৃশ উপস্থিতি এই ব্যবস্থাকে দান করা হয়েছে। এটা জেনে রাখুন: যদি ময়দানে আপনাদের শক্তি প্রকাশিত না হয়, তবে নেতৃত্ব কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই, যাদের প্রকৃত দায়িত্ব জনগণের সেবা করা, প্রয়োজনীয় কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে পারবে না।

এই অর্থ যেন আরও উত্তমরূপে বাস্তবায়িত হয়, সেজন্য প্রথমত, মহান ও বরকতময় আল্লাহর স্মরণ, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল এবং নিষ্পাপ ইমামগণের (আল্লাহর দরুদ তাঁদের সকলের ওপর) পবিত্র নূরসমূহের তাওয়াসসুলকে সর্বশ্রেষ্ঠ পরশমণি ও দুর্লভ রত্ন হিসেবে দেখতে হবে, যা নানা ধরনের উন্মোচন এবং শত্রুর ওপর নিশ্চিত বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয়। এটি এক মহান বৈশিষ্ট্য, যা আপনাদের রয়েছে এবং আপনাদের শত্রুদের নেই।

দ্বিতীয়ত, জাতির ব্যক্তি ও শ্রেণিসমূহের মধ্যকার ঐক্য, যা সাধারণত সংকটের সময় বিশেষভাবে প্রকাশ পায়, তাতে যেন কোনো ফাটল না ধরে। মতভেদের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলার মাধ্যমেই তা অর্জিত হবে।

তৃতীয়ত, ময়দানে কার্যকর উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে; তা হোক যুদ্ধের এই দিন ও রাতগুলোতে আপনারা যেভাবে প্রদর্শন করেছেন সেভাবে, কিংবা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক এমনকি নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নানা কার্যকর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি না করে সঠিক ভূমিকাটি যথাযথভাবে উপলব্ধি করা এবং যথাসম্ভব তা বাস্তবায়ন করা। নেতৃত্ব ও অন্যান্য কিছু কর্মকর্তার অন্যতম দায়িত্ব হলো সমাজের ব্যক্তি বা শ্রেণিসমূহকে এসব ভূমিকার কিছু বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এজন্য আমি ১৪৪৭ সালের কুদস দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, যেখানে শত্রু-দমনের উপাদানটি সকলের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকা উচিত।

চতুর্থত, একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে কোনো ত্রুটি করবেন না। আলহামদুলিল্লাহ, অধিকাংশ ইরানির চিরন্তন বৈশিষ্ট্য এটাই ছিল, এবং প্রত্যাশা করা হয় যে এই বিশেষ দিনগুলোতে, যা স্বাভাবিকভাবেই জাতির কিছু সদস্যের জন্য অন্যদের তুলনায় বেশি কঠিন, এই বিষয়টি আরও বেশি প্রকাশ পাবে। এই সুযোগে আমি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন এ ক্ষেত্রে জাতির সেই প্রিয় সদস্যদের এবং জনগণের ত্রাণ সংগঠনগুলোকে সব ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদানে কার্পণ্য না করে।

এই দিকগুলো মেনে চলা হলে, প্রিয় জাতি হিসেবে মহিমা ও গৌরবের দিনগুলোতে পৌঁছানোর পথ আপনাদের জন্য সুগম হবে। এর নিকটতম দৃষ্টান্ত হতে পারে, আল্লাহর ইচ্ছায়, বর্তমান যুদ্ধে শত্রুর ওপর বিজয়।

আমার বক্তব্যের তৃতীয় অংশ হলো আমাদের সাহসী যোদ্ধাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, যারা এমন পরিস্থিতিতে, যখন আমাদের প্রিয় জাতি ও মাতৃভূমি সাম্রাজ্যবাদী ফ্রন্টের শীর্ষ শক্তিগুলোর মজলুমানা আগ্রাসনের শিকার, তাদের চূর্ণকারী আঘাতের মাধ্যমে শত্রুর পথ রুদ্ধ করেছেন এবং প্রিয় মাতৃভূমির ওপর আধিপত্য বিস্তার ও সম্ভবত একে খণ্ডিত করার ভ্রান্ত ধারণা থেকে তাদের বের করে এনেছেন। প্রিয় যোদ্ধা ভাইয়েরা! জনসাধারণের দাবি হলো কার্যকর ও অনুশোচনা-সৃষ্টিকারী প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখা। একইভাবে নিশ্চিতভাবেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হাতিয়ারটি অব্যাহতভাবে ব্যবহার করতে হবে। অন্যান্য ফ্রন্ট খোলার বিষয়ে, যেখানে শত্রুর অভিজ্ঞতা সামান্য এবং যেখানে সে মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে, কিছু গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে, এবং যুদ্ধাবস্থা অব্যাহত থাকলে ও স্বার্থ বিবেচনায় তা সক্রিয় করা হবে।

একইভাবে প্রতিরোধ ফ্রন্টের যোদ্ধাদের প্রতিও আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা প্রতিরোধ ফ্রন্টের দেশগুলোকে আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু মনে করি, এবং প্রতিরোধের বিষয় ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট ইসলামি বিপ্লবের মূল্যবোধের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিঃসন্দেহে এই ফ্রন্টের অংশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ইহুদিবাদী ফিতনা থেকে মুক্তির পথকে সংক্ষিপ্ত করে; যেমনটি আমরা দেখেছি, সাহসী ও মুমিন ইয়েমেন গাজার মজলুম জনগণের প্রতিরক্ষা থেকে বিরত হয়নি, আত্মত্যাগী হিজবুল্লাহ সকল প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে এবং ইরাকের প্রতিরোধও সাহসিকতার সঙ্গে একই পথ অবলম্বন করেছে।

চতুর্থ অংশে আমার বক্তব্য তাঁদের উদ্দেশে, যারা এই কয়েক দিনে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন; তাঁরা প্রিয়জন বা প্রিয়জনদের শাহাদাতের বেদনা অনুভব করে থাকুন, আহত হয়ে থাকুন, কিংবা তাঁদের ঘরবাড়ি বা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকুক। এ অংশে প্রথমত আমি মহান শহীদদের স্বজনদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। এটি সেই অভিন্ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, যা এই মহৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে আমার রয়েছে; আমার পিতা ছাড়াও, যাঁর বিয়োগব্যথা সর্বজনীন বিষয়ে পরিণত হয়েছে, আমি আমার প্রিয় ও বিশ্বস্ত স্ত্রীকে, যাঁর ওপর আমার অনেক আশা ছিল, আমার আত্মত্যাগী বোনকে, যিনি নিজেকে পিতা-মাতার সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন এবং অবশেষে তাঁর প্রতিদান লাভ করেছেন, তাঁর ছোট শিশুকেও, এবং আমার আরেক বোনের স্বামীকে, যিনি একজন আলেম ও সম্মানিত মানুষ ছিলেন, শহীদদের কাফেলার কাছে সমর্পণ করেছি। কিন্তু যা বিপদে ধৈর্য ধারণকে সম্ভব, এমনকি সহজ করে তোলে, তা হলো ধৈর্যশীলদের জন্য মহামূল্যবান প্রতিদানের বিষয়ে আল্লাহর অবধারিত ও নিশ্চিত প্রতিশ্রুতির প্রতি মনোযোগ। সুতরাং ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর অনুগ্রহ ও সাহায্যের প্রতি আশা ও আস্থা রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আমি সকলকে এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আপনাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ থেকে আমরা বিরত হব না। আমরা যে প্রতিশোধের কথা ভাবছি, তা কেবল বিপ্লবের মহান মর্যাদাসম্পন্ন নেতার শাহাদাতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং শত্রুর হাতে শহীদ হওয়া জাতির প্রতিটি সদস্যই প্রতিশোধের নথির জন্য একটি স্বতন্ত্র বিষয়। অবশ্য এই প্রতিশোধের সীমিত একটি অংশ এ পর্যন্ত বাস্তব রূপ লাভ করেছে, কিন্তু যতক্ষণ না তা পূর্ণমাত্রায় অর্জিত হয়, ততক্ষণ এই নথি অন্য সকল নথির ঊর্ধ্বে থাকবে, এবং বিশেষ করে আমাদের শিশু ও কিশোরদের রক্তের ব্যাপারে আমরা অধিক সংবেদনশীল থাকব। এজন্য মিনাবের শাজারায়ে তাইয়্যেবা বিদ্যালয় এবং অনুরূপ কিছু ক্ষেত্রে শত্রু ইচ্ছাকৃতভাবে যে অপরাধ সংঘটিত করেছে, এই বিচার-প্রক্রিয়ায় তার এক বিশেষ স্থান রয়েছে।

তৃতীয়ত, এসব হামলায় আহত ও পঙ্গু হওয়া ব্যক্তিদের অবশ্যই বিনামূল্যে যথাযথ চিকিৎসাসেবা পেতে হবে এবং অন্যান্য কিছু সুবিধাও ভোগ করতে হবে।

চতুর্থত, বর্তমান পরিস্থিতি যতটুকু অনুমতি দেয়, ব্যক্তিগত স্থাপনা ও সম্পত্তির আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। শেষোক্ত দুটি বিষয় সম্মানিত কর্মকর্তাদের জন্য অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব, যা তাঁদের বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সে বিষয়ে আমাকে প্রতিবেদন দিতে হবে।

যে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, তা হলো, যেকোনো উপায়ে আমরা শত্রুর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করব, আর যদি সে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আমরা যতটুকু নির্ধারণ করব ততটুকু তার সম্পদ থেকে গ্রহণ করব, আর তাও সম্ভব না হলে তার সম্পদের সমপরিমাণ ধ্বংস করে দেব।

বক্তব্যের পঞ্চম অংশ অঞ্চলের কিছু দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও প্রভাবশালী স্তরের উদ্দেশে। পনেরোটি দেশের সঙ্গে আমাদের স্থল বা জলসীমায় প্রতিবেশিত্ব রয়েছে, এবং আমরা সর্বদা তাদের সকলের সঙ্গে উষ্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্কের আগ্রহী ছিলাম এবং আছি; কিন্তু শত্রু বহু বছর আগে থেকে ধীরে ধীরে এসব দেশের কয়েকটিতে সামরিক ও আর্থিক উভয় ধরনের ঘাঁটি নির্মাণ করেছে, যাতে অঞ্চলের ওপর তার আধিপত্য নিশ্চিত করতে পারে। সাম্প্রতিক আগ্রাসনে এসব সামরিক ঘাঁটির কয়েকটি ব্যবহৃত হয়েছে; স্বাভাবিকভাবেই আমরা, যেমনটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিলাম, সেসব দেশের ওপর কোনো আক্রমণ না করে কেবল সেই ঘাঁটিগুলোতেই হামলা চালিয়েছি। এখন থেকেও আমরা বাধ্য হয়ে এই কাজ অব্যাহত রাখব, যদিও আমরা এখনও নিজেদের ও সেই প্রতিবেশীদের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস রাখি। এসব দেশকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির আগ্রাসনকারী ও আমাদের জনগণের হত্যাকারীদের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। আমি পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন যত দ্রুত সম্ভব সেই ঘাঁটিগুলো বন্ধ করে দেয়; কারণ তারা নিশ্চয়ই এতদিনে বুঝে গেছে যে আমেরিকার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এর ফলে তাদের নিজেদের জাতির সঙ্গে, যারা সাধারণত কুফরি ফ্রন্টের সঙ্গে সহযোগিতা ও তার অবমাননাকর আচরণে অসন্তুষ্ট, তাদের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে এবং তাদের সম্পদ ও শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আমি আবারও পুনরাবৃত্তি করছি, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থা অঞ্চলে কোনো আধিপত্য ও উপনিবেশবাদ প্রতিষ্ঠা করতে না চেয়ে সকল প্রতিবেশীর সঙ্গে ঐক্য এবং পারস্পরিক উষ্ণ ও আন্তরিক সম্পর্কের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত।

বক্তব্যের ষষ্ঠ অংশে আমার কথা আমাদের শহীদ নেতার উদ্দেশে। হে নেতা! আপনার বিদায়ে আপনি সকলের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছেন। আপনি সর্বদা এই পরিণতির আকাঙ্ক্ষী ছিলেন, অবশেষে মহান আল্লাহ পবিত্র রমজানের দশম দিনের প্রভাতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় তা আপনাকে দান করেছেন। আপনি বহু অবিচার ও নিপীড়ন শক্তিমত্তা ও সহনশীলতার সঙ্গে সহ্য করেছেন এবং ভ্রূক্ষেপও করেননি। অনেকেই আপনার প্রকৃত মর্যাদা চিনতে পারেনি, এবং হয়তো দীর্ঘ সময় লাগবে নানা আবরণ ও প্রতিবন্ধকতা সরে গিয়ে তার কিছু দিক উন্মোচিত হতে। আমরা আশা করি, পবিত্র নূরসমূহ, সিদ্দিকীন, শহীদগণ ও আউলিয়াদের সান্নিধ্যে আপনার জন্য যে নৈকট্যের মর্যাদা প্রস্তুত হয়েছে, সেখান থেকে আপনি এখনও এই জাতি ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের সকল জাতির উন্নতির কথা ভাববেন এবং তার জন্য সুপারিশ করবেন, যেমনটি আপনি আপনার পার্থিব জীবনে ছিলেন। আমরা আপনার সঙ্গে অঙ্গীকার করছি যে, এই পতাকা, যা সত্যের ফ্রন্টের মূল পতাকা, তার উন্নয়নের জন্য এবং আপনার পবিত্র লক্ষ্যসমূহে পৌঁছানোর জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।

সপ্তম অংশে আমি সেই সকল সম্মানিত ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহান মারজায়ে তাকলিদগণ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, এবং জনগণের সেই সদস্যদেরও, যারা ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে বাইয়াত ঘোষণার জন্য জাঁকজমকপূর্ণ সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন; একইভাবে তিন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদকেও তাঁদের সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

আশা করি এই কল্যাণময় সময় ও দিনগুলোতে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ সমগ্র ইরানি জাতি, বরং বিশ্বের সকল মুসলমান ও নিপীড়িত মানুষের ওপর বর্ষিত হবে।

এবং সবশেষে আমাদের মাওলার (আল্লাহ তাআলা তাঁর মহিমান্বিত আবির্ভাব ত্বরান্বিত করুন) কাছে প্রার্থনা করছি, কদরের রাত ও দিনসমূহ এবং পবিত্র রমজান মাসের এই অবশিষ্ট সময়ে তিনি যেন মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর দরবারে আমাদের জাতির জন্য শত্রুর ওপর চূড়ান্ত বিজয় এবং মর্যাদা, স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা, এবং তাদের প্রয়াত প্রিয়জনদের জন্য উচ্চ মর্যাদা ও পারলৌকিক নিরাপত্তা প্রার্থনা করেন।

والسّلام علیکم و رحمة‌اللّه و برکاته و تحیّاته
আপনাদের ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত, বরকত ও শুভেচ্ছা বর্ষিত হোক।

সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি
২১ এসফান্দ ১৪০৪, মোতাবেক ২২ রমজানুল মুবারক ১৪৪৭

(1) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১০৬-এর অংশবিশেষ